চার দিন পর ১২ই ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।নির্বাচনকে সামনে রেখে ঝিনাইদহ-৩ কোটচাঁদপুর মহেশপুরের নির্বাচনি মাঠ পুনরুদ্ধারের দখল যুদ্ধে মরিয়া হয়ে উঠেছে দুই দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী। চলছে শেষ মুহুর্তে নিজ নিজ দলের প্রচার-প্রচারণা সভা-সমাবেশ।বিএনপি'র দুর্গ হিসাবে খ্যাত আসনটি এবার জামায়াতের থাবাই বিধ্বস্ত হওয়ার শঙ্কা বেশি বলে মনে করছেন অনেকই। তবে বিধ্বস্ত হওয়ার শঙ্কার কথা থোড়ায় কেয়ার করে মানতে নারাজ কেন্দ্রীয় বিএনপি নির্বাহী কমিটির সহ তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক কে এম আমিরুজ্জামান খান শিমুল, বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল ।
সাবেক জাসাস নেতা কন্ঠ শিল্পী মনির খান হেভি ওয়েট এই বিএনপি নেতাদের দাবি কোটচাঁদপুর মহেশপুর বিএনপির ঘাঁটিতে থাবা দেওয়ার সক্ষমতা কারো নেই। কারণ এই জনপদের মানুষের জীবন যাত্রা মান উন্নয়ন আলোর মুখ দেখিয়েছে বিগত বিএনপি সরকার। প্রথমে অবস্থা প্রচার প্রচারণায় একটু দুর্বল থাকলেও তারা গণ সংযোগ শুরু করার পর থেকে বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। গণ জোয়ার এসেছে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করেই ঘরে ফিরবেন বলে আশা করছেন নেতারা।
যে কারণে ঝিনাইদ-৩ (কোটচাঁদপুর-মহেশপুর) আসনে নির্বাচনি মাঠ এখন অনেকটাই সরগরম। দুই দলের মধ্যেই নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ভোটাররা মনে করছেন। বিএনপি দুর্গ হিসেবে খ্যাত ঝিনাইদহ-৩ আসন। এ আসনে বিএনপি দলিও ধানের শীষ প্রতীকে মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও প্রয়াত ৪ বার নির্বাচিত সাবেক এমপি শহিদুল ইসলাম মাস্টারের জৈষ্ঠ পুত্র মো,মেহেদী হাসান রনি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কেন্দ্রীয় সুরা সদস্য কোটচাঁদপুরের সন্তান অধ্যাপক মতিয়ার রহমান। এছাড়া ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা গোলাম সরোয়ার মাঠে প্রচরনা চালাচ্ছেন। ৩ দলের প্রার্থীরা প্রচার চালালেও ধানের শীষ ও দাঁড়ি পাল্লা প্রতিকে হাড্ড হাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে নির্বাচনে শক্ত অবস্থানে আছে বলে দাবি করছে তারা।কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত ঝিনাইদহ-৩ আসন।
আসনটিতে ১৯৯১ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত টানা ৪ বার নির্বাচনে বিএনপির শহিদুল ইসলাম মাষ্টার নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে একক আধিপত্যের কারণে দলকে সুসংগঠিত রাখতে না পারায় ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি এ আসনটি হারায়। ওই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী শফিকুল আজম খান চঞ্চল এক লাখ ১৮ হাজার ৩৯১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। ৮১ হাজার ৭৩৯ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন জামায়াতের মতিয়ার রহমান। আর বিএনপির শহিদুল ইসলাম ৫৯ হাজার ১৫ ভোট পেয়ে তৃতীয় হন।গত ১ বছর আগের থেকেই জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরার সদস্য অধ্যাপক মতিয়ার রহমানকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। সেই থেকেই একক প্রার্থীকে নিয়ে নির্বাচনী মাঠ সরব ছিলো জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। নারীদের সর্বোচ্চ ভোট সংগ্রহের লক্ষ্য নিয়ে দলটির নারী কর্মীরা বিভিন্ন সভা-সেমিনার চালিয়ে যাচ্ছে মাঠে ময়দানে।
মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ধানের শীষের প্রার্থী মেহেদী হাসান রনি তার পিতা মরহুম শহিদুল ইসলাম মাষ্টার টানা ৪ বার এমপি ছিলেন। তার পিতার ইমেজ নির্বাচনে কাজে লাগিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে। তিনি বলেন কোটচাঁদপুর মহেশপুরের উন্নয়ন রাস্তাঘাট বিদ্যুৎসহ যে সকল উন্নয়ন দৃশ্যমান আছে সব আমার বাবার হাতের। বিএনপি সরকারের আমলের তারপর আর কোন উন্নয়ন হয়নি দুই উপজেলায়। আমি সাধারণ মানুষের সাথে আগেও ছিলাম এখনো আছি ধানের শীষের বিজয় হবে। বাবার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত কাজ সমাপ্ত করব ইনশাল্লাহ।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মতিয়ার রহমান বলেন, এ আসনে জামায়াতে ইসলামী অনেক শক্তিশালী। বিগত ২ বার এমপি ছিলো মোজাম্মেল হক সাহেব সেই দিনের কথা চিন্তা করে সাধারণ ভোটাররা জামায়াতকেই চায়। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী এ আসন থেকে জয়ী হবে ইনশাআল্লাহ।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী পক্ষ থেকে প্রচার-প্রচারনা চালালেও মাঠে ময়দানে কর্মীদের তেমন দৃশ্যমান দেখা যাচ্ছে না। মহেশপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দবির উদ্দিন বিশ্বাস জানান, ঝিনাইদহ -৩ আসনটি বিগত দিনে তাদের দখলে ছিলো এবারও সাধারণ মানুষ ভোট দিয়ে তাদের প্রার্থীকে বিজয় করবে ইনআশাল্লাহ। তাদের দলীয় সর্বশেষ সমাবেশ আগার্মী ৯ই ফেব্রুয়ারি বিকাল ৩ টায় মহেশপুর হাইস্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।
কোটচাঁদপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক লিয়াকত আলী ও জলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেন খোকন বলেন, এলাকায় উন্নয়ন যা হয়েছে শহিদুল মাস্টাররা আমলে তারপর আর কোন উন্নয়ন হয়নি আবাও উন্নয়ন হবে মেহেদী হাসান রনি কে বিজয়ী করার পর। কোটচাঁদপুর মহেশপুরের মাটি বিএনপি'র ঘাঁটি আগেও ছিল এখনো আছে বিপুল ব্যবধানে ধানের শীষের বিজয় হবে ইনশাল্লাহ।
অপরদিকে জামায়াতের পক্ষ থেকে দুই উপজেলায় জন সমাবেশ করবে বলে জানান। ঝিনাইদহ-৩ আসন পুনরুদ্ধারে ২ দল মরিয়া। কে হবে এখানকার এমপি তাই নিয়ে গ্রাম গঞ্জে শহরের হাট বাজারের চায়ের দোকানে সকল থেকে রাত পর্যন্ত বইছে নানান জল্পনা কল্পনা। চুলচেরা বিশ্লেষণে ব্যস্ত সাধারন ভোটাররা তারা বলছে এলকার উন্নয়নে ও সাধারণ মানুষের পশে যে সব সময় ছিল এবং আগামীতেও থাকবে থাকেই ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন তার। ১২ ফেব্রুয়ারি হবে এর চুড়ান্ত ফয়সালা।এই আসনে মোট ভোট কেন্দ্র ১৬৬ টি। ৪ লক্ষ ৩১ হাজার ১৫ জন ভোটার । এর মধ্যে ২ লক্ষ ১৭ হাজার ৪ শত ৭০ জন পুরুষ আর ২ লক্ষ ১৩ হাজার ৫ শত ৪২ জন নারী এবং তৃতীয় লিঙ্গ ৩ জন ভোটার রয়েছে।