ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এবারের নির্বাচনে ঋণগ্রহীতা প্রার্থীদের সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে বিএনপি। মোট ২ হাজার ২৬ জন প্রার্থীর মধ্যে ৫১৯ জনই কোনো না কোনো ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা, যার মধ্যে বিএনপির প্রার্থীর সংখ্যা ১৬৭ জন।
শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী প্রার্থীদের তথ্যাদি উপস্থাপন’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়ক দিলীপ কুমার সরকার।
আয় ও ঋণের চালচিত্র:- সুজনের তথ্যমতে, মোট প্রার্থীর ২৫.৬২ শতাংশ ঋণগ্রহীতা। এর মধ্যে বড় অংকের (৫ কোটি টাকার বেশি) ঋণ নিয়েছেন ৭৫ জন প্রার্থী। ঋণগ্রহীতার তালিকায় শীর্ষ তিন অবস্থান হলো:
বিএনপি: ১৬৭ জন (৩২.১৭%)
জামায়াতে ইসলামী
স্বতন্ত্র প্রার্থী
অন্যদিকে, প্রার্থীদের বার্ষিক আয়ের তথ্যে দেখা যায়—
৮৩২ জন (৪১%): বার্ষিক আয় ৫ লাখ টাকার নিচে।
৯৫ জন: বার্ষিক আয় কোটি টাকার ওপরে।
১৫৫ জন: হলফনামায় আয়ের তথ্য উল্লেখ করেননি।
আয়কর প্রদানে ইতিবাচক পরিবর্তন
গত নির্বাচনের তুলনায় এবার আয়কর প্রদানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। দ্বাদশ নির্বাচনে এই হার ছিল ৪৭.৩০ শতাংশ, যা এবার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫.১০ শতাংশে। তবে ১৩২ জন প্রার্থী কেবল টিআইএন (TIN) সনদ জমা দিলেও কোনো আয়কর বিবরণী দাখিল করেননি, যাকে 'অসম্পূর্ণ মনোনয়ন' হিসেবে অভিহিত করেছে সুজন।
শীর্ষ ধনী প্রার্থী যারাঃ-
বার্ষিক আয়ের দিক থেকে এবারের নির্বাচনের শীর্ষ তিন প্রার্থী হলেন:
জাকারিয়া তাহের (কুমিল্লা-৮, বিএনপি): বার্ষিক আয় প্রায় ৬০ কোটি টাকা।
মো. আসাদুল ইসলাম (টাঙ্গাইল-১, স্বতন্ত্র): আয় প্রায় ৪০ কোটি টাকা।
জাকির হোসেন পাটওয়ারী (লক্ষ্মীপুর-১, ইসলামী আন্দোলন): আয় প্রায় ১৯ কোটি টাকা।
এছাড়াও মির্জা আব্বাস ও সালাউদ্দিন আলমগীরের মতো হেভিওয়েট প্রার্থীদের বার্ষিক আয় ৪ থেকে ৬.৫ কোটি টাকার মধ্যে।
সুজনের পর্যবেক্ষণ: সংবাদ সম্মেলনে সুজনের প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, প্রার্থীরা তথ্য দিলেও অনেকের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। তবে এবার আয়কর দেওয়ার প্রবণতা বাড়াটা একটি ইতিবাচক দিক।