আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন ও মোল্লা মাসুদকে গত বছর গ্রেফতার করেছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ওই সময় তারা টার্গেট কিলিং মিশন নিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন যখন খুবই সন্নিকটে তখন শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের এক সহযোগী মেহেদী হাসান দিপু ওরফে বিপুকে ১১টি বিদেশী পিস্তল ও ৩৯৪টি গুলিসহ রাজধানীর বাড্ডা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে সেনাবাহিনীর ৪৬ ব্রিগেডের সদস্যরা।
নির্বাচনের মাঠে সেনাবাহিনী অনেক আগে থেকে কাজ শুরু করলেও সম্প্রতি গোয়েন্দারা মাঠে নেমেছে নির্বাচনের মাঠে সক্রিয় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তালিকা নিয়ে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদন অনুসারে সারা দেশে এমন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী আছে অন্তত ৩৪৬ জন, যাদের মধ্যে ঢাকাতেই আছে ১০৩ জন। আর ঢাকার আশপাশের এলাকায় আছে আরো ৪৯ জন। তালিকায় আছেন শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমন, লিটন, মোহাম্মদপুরের এক্সএল বাবু, মোজাম্মেল হোসেন বাবু এবং ওসমান হাদি হত্যায় মূল শুটার ফয়সাল।
তালিকাভুক্ত সন্ত্রাসীদের ধরতে শনিবার রাত থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযানে নেমেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের বাকি আর মাত্র দুই দিন। আগামী বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নেমেছেন বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ১০ লাখ সদস্য। মাঠে নামছেন ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে এবং নির্বাচন পরবর্তী সম্ভাব্য সহিংসতা প্রতিরোধে গতকাল থেকে মাঠে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট সাত দিন দায়িত্বে থাকবেন।ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন- সব ক্ষেত্রেই রিটার্নিং কর্মকর্তাদের অধীনে কাজ করবে এসব বাহিনী। এ ছাড়া বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করতে সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন সেনাবাহিনীর ১ লাখ ৩ জন সদস্য। এ ছাড়া নৌবাহিনীর ৫ হাজার, বিমানবাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩, কোস্টগার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫, পুলিশের ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩, র্যাবের ৯ হাজার ৩৪৯ এবং আনসার ও ভিডিপির ৫ লাখ ৭৬ হাজার ৪৮৩ জন সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এর বাইরে ১ হাজার ৯২২ জন বিএনসিসি ক্যাডেট এবং ৪৫ হাজার ৮২০ জন গ্রাম পুলিশ (চৌকিদার ও দফাদার) দায়িত্ব পালন করবেন।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি এবং কোস্টগার্ড মোতায়েন করা হয়েছে। একই সাথে স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় ‘ইন এইড টু’ সিভিল পাওয়ারের আওতায় সশস্ত্রবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। সব বাহিনী রিটার্নিং অফিসারের কাছে রিপোর্ট করবে। তার নির্দেশ ও পরামর্শ অনুসারে সবাই দায়িত্ব পালন করবে বলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়।
সার্বিক প্রস্তুতি বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ গণমাধ্যমকে বলেন, সেনাবাহিনী আগেই নামানো হয়েছে, রোববার থেকে আরো সেনাসদস্য যুক্ত হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ভোটের আগে ও পরে মিলিয়ে মোট সাত দিন তারা মাঠে থাকবেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সাথে সমন্বয় করে কাজ করবে। ইসির কেন্দ্রীয় সমন্বয় সেল পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং নিজস্ব সিকিউরিটি অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাবে।
এ দিকে ১০০ নম্বর ওয়ার্ড য্বুলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক স্বপন মোল্লা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ‘নো বোট, নো ভোট’ ক্যাম্পেইনের লিফলেট বিতরণ করছেন রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায়। পুলিশের খাতায় তিনি অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী হিসেবে তালিকাভুক্ত।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) নজরুল ইসলাম বলেন, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে ঢাকা মহানগরীতে আমরা ১০৩ জন শুটারের তালিকা পেয়েছি। তারা অতীতে বিভিন্ন ঘটনার সময় বিভিন্নভাবে শুট করেছিল। তিনি বলেন, তাদের তথ্য আমাদের কাছে এসেছে। সেসব তথ্য বিভিন্ন জায়গায় দিয়েছি। আমরা তাদের আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। এই লিস্ট পুলিশের নানা বিভাগকে দেয়া হয়েছে।
তালিকায় থাকা অন্তত ১১ জনের নামে কোনো মামলা নেই। সে কারণে তাদের ধরতে বিশেষ অভিযানের পরিকল্পনা করছে পুলিশ। তিনি আরো বলেন, প্রায় বিশেষ অভিযান চলছে। এরই মধ্যে বিপুল পরিমাণে বিদেশী পিস্তল, দেশী পিস্তল, বিদেশী রিভলবার পরিত্যক্ত কিছু অস্ত্র ও বুলেট উদ্ধার হয়েছে এবং ৫২ অবৈধ অস্ত্রধারীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।