
নবম পে-স্কেল ঘোষণা ও বাস্তবায়নের দাবিতে
দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এসে গতকাল সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জড়ো হন
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এরপর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তারা মিছিল নিয়ে
যমুনা অভিমুখে রওনা করেন। তবে তাদের পথরোধ করতে আগে থেকেই শাহবাগ থানার
সামনে ব্যারিকেড দিয়ে রাখে পুলিশ। সেই ব্যারিকেড ভেঙে সামনে এগুতে থাকলে
তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করতে জলকামান থেকে রঙিন পানি নিক্ষেপ করে পুলিশ। পুলিশি
বাধা উপেক্ষা করে আন্দোলনকারীরা হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় হয়ে যমুনার
সামনে পৌঁছে যায়। বেলা ১১টার দিকে যমুনার ঠিক সামনের রাস্তায় বসে বিভিন্ন
স্লোগান দিতে থাকেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ সময় পুরো এলাকায়
বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ডিএমপি কমিশনার থেকে শুরু করে পুলিশের
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিজিবি, এপিবিএন, সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন।
প্রথমে আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে সরে যাওয়ার অনুরোধ জানায় পুলিশ। তবে
তারা সরে যেতে অস্বীকৃতি জানায়। বহু চেষ্টার পরও বিক্ষোভকারীরা যমুনা
এলাকা না ছাড়লে পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করে। একইসঙ্গে জলকামান থেকে রঙিন পানি
ছিটানো শুরু করে। এরপরই একের পর এক সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে পুলিশ।
পুলিশের তোপের মুখে আন্দোলনকারীদের কেউ কেউ রমনা পার্কের মধ্যে ঢুকে পড়েন।
কেউ আবার ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ের দিকে দৌড়ে সরে যান। এভাবে দফায় দফায় চলে
ধাওয়া- পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ। সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেলের মুখে
টিকতে না পেরে একপর্যায়ে শাহবাগ ও বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের
আউটডোরের গলি হয়ে শহীদ মিনারের দিকে চলে যান। আহতদের নেয়া হয় ঢাকা মেডিকেল
কলেজ হাসপাতালে।
এদিকে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের
ঘটনা জাতিসংঘের মাধ্যমে পুনঃতদন্ত ও হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে যমুনার
অদূরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে গত বৃহস্পতিবার থেকেই অবস্থান নিয়ে
ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা। তাদের সঙ্গে সেখানে অবস্থানে ছিলেন ওসমান
হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা। ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড়ের মূল সড়কে তাঁবু
পেতে ও কম্বল গায়ে দিয়ে বৃহস্পতিবার রাতভর অবস্থানের পর শুক্রবার সকালেও
তারা সেখানেই অবস্থান নিয়ে ছিলেন। আন্দোলনরত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা
ছত্রভঙ্গ হয়ে চলে যাওয়ার পরপরই ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরাও মাইক নিয়ে বিভিন্ন
স্লোগান দিতে থাকেন। এরই মধ্যে তাদের একটি প্রতিনিধিদল প্রধান উপদেষ্টার
সঙ্গে দেখা করতে যমুনায় যায়। এ সময় রাস্তায় অবস্থান নেয়া ইনকিলাব মঞ্চের
সকলকে পুলিশি ব্যারিকেড দিয়ে আটকে রাখা হয়। পুলিশের সঙ্গে এই সময় বিজিবি,
এপিবিএনসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর আরও বেশ কয়েকটি সংস্থার সদস্যরা উপস্থিত
ছিলেন। তবে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করতে না পেরে যমুনা থেকে
প্রতিনিধিদল ফেরত এলে অবস্থান নেয়া ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা বিক্ষুব্ধ হয়ে
উঠেন। এই সময় তারা পুলিশকে ব্যারিকেড খুলে রাস্তা ছেড়ে দিতে ১০ মিনিট সময়
বেঁধে দেন। কিন্তু সেখানে আরও অতিরিক্ত পুলিশ ও এপিবিএন সদস্য মোতায়েন করা
হয়। এরপর ৩টা ৫০ মিনিটের দিকে তারা পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার দিকে
এগুতে থাকেন। তখন পুলিশ তাদের লক্ষ্য করে রঙিন পানি ছোড়ে। এতে আরও
বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা। পুলিশও ব্যাপক লাঠিচার্জ শুরু
করে। এ সময় পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন
আন্দোলনকারীরা।