অতীতের
কোনো সংসদ নির্বাচনে তেমন সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ আসনে জয়
পেয়ে বাজিমাত করেছে দলটি। বিগত সময়ে তারা জোটের সঙ্গী থাকলেও এবার জোটের
নেতৃত্ব দিয়ে নিজস্ব শক্তি যেমন প্রদর্শন করেছে তেমনি এককভাবে ৬৮টি আসনে জয়
পেয়েছে, আর জোটগত হিসাবে এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৭।
দলটির সেক্রেটারি
জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারসহ দলটির শীর্ষ ও হেভিওয়েট নেতাদের মধ্যে অনেকেই
হেরেছেন। ফলে সরকার গঠনের পর্যায়ে না পৌঁছালেও বিরোধী দলের আসনে বসতে
যাচ্ছে জামায়াত। তবু এ ফলাফলে দলটির কর্মী-সমর্থক থেকে শুরু করে
নেতাকর্মীরা চরমভাবে হতাশ। নিশ্চিত জয় পাওয়া আসনগুলোতে কেন হেরেছেন তা নিয়ে
তৃণমূলে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
প্রায়
৩০টি আসনে হাড্ডাহাডি লড়াই করে হেরেছে। এর মধ্যে কয়েকটি আসনে হারের
ব্যবধান মাত্র দুই থেকে পাঁচ হাজার ভোটের। এর বিপরীত চিত্র দেখা গেছে, কোনো
কোনো আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলতে পারেননি, হয়েছেন তৃতীয়।
সব
মিলিয়ে সংসদ নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে চুলচেরা হিসাব কষছে জামায়াত। ফলাফল
বিশ্লেষণ করে দলটির তৃণমূল নেতাকর্মীরা মনে করেন সঠিক প্রার্থীকে মনোনয়ন না
দিয়ে ‘ভুল’ প্রার্থী বাছাই করা, বারবার প্রার্থী পরিবর্তন, জোট নিয়ে
টানাপড়েন, শরিকদের গুরুত্ব দিতে গিয়ে একাধিক আসনে তুলনামূলক ভাবে অপরিপক্ব,
অপরিচিত ও নতুন প্রার্থীদের মনোনয়ন এবং প্রার্থীদের মূল্যায়ন না করায়
নিশ্চিত জয় পাওয়া আসনগুলোতে হেরেছে। কিন্তু এরই মধ্যে নির্বাচনে ফলাফল
একাধিক বৈঠকে করেছেন দলটির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম কেন্দ্রীয়
নির্বাহী পরিষদ।
জামায়াতের
দায়িত্বশীল সূত্র মতে, বেশ কয়েকটি জায়গায় নির্বাচনে ভোট অনিয়ম ও কারচুপির
অভিযোগ রয়েছে। এমনকি ফলাফল স্থগিত, পুনর্গণনাসহ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি
জানিয়েছেন। ফলাফলে কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকলেও সামগ্রিক পরিবেশ ছিল
অভূতপূর্ব।
তাই প্রায় ১৭ বছর প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবিলা করে যে ফল পাওয়া
গেছে তাকে যথেষ্ট ইতিবাচক হিসেবে দেখছে দলের নীতিনির্ধারণী মহল। কাক্সিক্ষত
সংখ্যায় আসন না পেলেও তেমন সংক্ষুব্ধ নন তারা। সংসদে শান্তিপূর্ণ,
দায়িত্বশীল ও গঠনমূলক শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে কাজ করতে প্রস্তুতি
নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন একাধিক শীর্ষ নেতা।
জামায়াতের
একজন বলছেন, এবারের ফলাফলে অনেকটাই খুশি। বিগত সময়ের চেয়ে এবার ভোট
বহুগুণে বেড়েছে। তাই জামায়াত মানুষের কণ্যাণে নীতিগত বিতর্ক, আইন প্রণয়নে
পরামর্শ, জনগণের প্রত্যাশা তুলে ধরা এবং রাষ্ট্রের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার
ক্ষেত্রে একটি সুস্থ, শান্তিপূর্ণ ও ইতিবাচক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে
দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
রাজনৈতিক
বিশ্লেষকরা নির্বাচনে জামায়াতের এ ফলাফলকে বিস্ময়কর উত্থান হিসেবে অভিহিত
করেছেন। তারা বলছেন জামায়াতের একক জয় দলটির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ রাজনৈতিক
বার্তা বহন করছে। কারণ ১৯৯৬ সালে এককভাবে নির্বাচন করে যেখানে দলটি পেয়েছিল
মাত্র ৩টি আসন।
২০০৮ সালে পেয়েছিল দুটি আসন। সেখানে এবার ৬৮টি আসন পেয়েছে।
আর এ উত্থানের পেছনে আওয়ামী লীগেরও ভূমিকা রয়েছে। তাদের দমন-পীড়নমূলক
শাসন, বিরোধী দলকে কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে না দেওয়া, নির্বাচন করতে না
দেওয়ার কারণে এটি হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে এ নির্বাচন তাদের জন্য নিঃসন্দেহে
পুনরাগমনের।
বিশ্লেষণে
দেখা গেছে, পরাজিতদের ভোটের ব্যবধান খুব বেশি না। হয়তো আরেকটু সিরিয়াস হলে
ভিন্ন রকম ফলাফল হতে পারত। কয়েকটি আসনে শীর্ষ নেতাদের জয়-পরাজয় নির্ধারণ
হয়েছে বিস্ময়করভাবে। আবার হারলেও সম্মানজনক ভোট পেয়ে আলোচনায় এসেছেন কেউ
কেউ।
এর মধ্যে ১ থেকে ৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন ৩ জামায়াত
জোটের প্রার্থী। ৫ থেকে ১০ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত ৮ প্রার্থী, ২০
হাজার ভোটের কম ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন ১২ প্রার্থী এবং ৩০ হাজার ভোটে কম
ব্যবধানে হেরেছেন ৭ জন।
বিভাগ
ওয়ারি ফলাফলে দেখা গেছে, অতীতে রাজধানী ঢাকায় একটি আসনও পায়নি জামায়াত।
কিন্তু এবার মহানগরের ১৫টি আসনের মধ্যে ৬টিতে জয় পেয়েছে এবং পাঁচটি আসনে
তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়েছে। তবে ঢাকা বিভাগের ৭০টির মধ্যে ৮টিতে জয়
পেয়েছে। চট্টগ্রাম বিভাগে ৫৮টির মধ্যে ৩টি আসনে জামায়াত এককভাবে জয় পেয়েছে।
মূলত দেশের উত্তরাঞ্চলে রংপুর ও রাজশাহী বিভাগ এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল
খুলনা বিভাগে অতীতের চেয়ে রেকর্ড সংখ্যক আসন পেয়েছে জামায়াত। এর মধ্যে
খুলনা বিভাগের ৩৬টি আসনের মধ্যে ২৫টি, রংপুরের ৩৩টির মধ্যে ১৬টি এবং
রাজশাহীর ৩৯টির মধ্যে ১১টি আসনে জয় পেয়েছে। তবে সবচেয়ে খারাপ ফল করেছে
সিলেট বিভাগে।
এ বিভাগে ১৯টি আসনের মধ্যে জামায়াত এককভাবে কোনো আসন পায়নি।
কেবল জোটের শরিক খেলাফত মজলিস একটি আসন পেয়েছেন।সিলেটে জামায়াত জোটের ভরাডুবির জন্য জোটের কিছু ভুল সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন তৃণমূণের নেতাকর্মীরা।
সিলেট-৫
আসনের (কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ) শাহীন আহমেদ নামের এক জামায়াতের নেতা সময়ের
আলোকে বলেন, সিলেট বিভাগে অন্তত ৬টি আসনে জামায়াত জোট প্রার্থীদের জয়
পাওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়। এ ছাড়া কয়েকটি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়েরও আভাস
ছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনো প্রার্থীই জয় পাননি।
এই হারের অন্যতম কারণ
হলো শরিক দলকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে জামায়াত নিজেদের শক্তিশালী প্রার্থীদেরও
মনোনয়ন দেয়নি। বরং কয়েকটি আসনে নিজেরা ভোট করলে প্রার্থীদের জয়ী হওয়ার
সম্ভাবনা ছিল। এটি সবচেয়ে বড় দুর্বলতা ছিল। এ ছাড়া প্রার্থী বাছাইয়েও ভুল,
একের পর প্রার্থী পরিবর্তন, ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোট
ব্যাপকভাবে টানতে না পারায় প্রার্থীদের ভরাডুবি হয়েছে।
নির্বাচনের
ফলাফল নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ এবং পরাজিত হওয়ার কারণগুলো খুঁজতে এর মধ্যে
একটি কমিটি কাজ করছে বলে জানান দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং
নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য মাওলানা আবদুল হালিম। তিনি সময়ের আলোকে
বলেন, নির্বাচন উৎসবমুখর হলে বেশ কিছু অনিয়ম হয়েছে এবং
নির্বাচনে ফল
প্রকাশে ধীরগতি ছিল। এ ছাড়া কিছু জাযগায় ফলাফল অপ্রত্যাশিত হয়েছে। আমরা আশা
করছিলমাম কমপক্ষে দেড়শ আসনে জয়ী হব আবার বেশ কিছু জায়গায় অনিয়মের তথ্য
আমরা পেয়েছি এবং তথ্য প্রমাণ সংগ্রহ করছি। তাই তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে আমরা
আইন পদক্ষেপ নেব
তিনি
বলেন, এখন জামায়াত সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে এবং মানুষের অধিকার
আদায়ে সোচ্চার থাকবে। আমরা শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল রাজনীতির প্রতি
অঙ্গীকারবদ্ধ।
জামায়াতের
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের সময়ের আলোকে বলেন, নির্বাচন অবাধ শান্তিপূর্ণ
হয়েছে এতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু কিছু আসনে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের
প্রার্থীদের পরিকল্পিতভাবে হারানো হয়েছে। আমরা মাঠ পর্যায় থেকে এসব
অভিযোগের প্রমাণ সংগ্রহ করছি।
দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে কাজ করার ঘোষণা আমিরের :
নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়ে দায়িত্বশীল বিরোধী দল হিসেবে কাজ করার ঘোষণা
দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক
রাজনীতি একটি দীর্ঘ পথ। আমাদের পথ এখন পরিষ্কার- মানুষের আস্থা অর্জন করা,
ক্ষমতাকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং দায়িত্বশীলভাবে ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি
নেওয়া। শুক্রবার গভীর রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টের
মাধ্যমে তিনি এ ঘোষণা দেন।
জামায়াত
আমির বলেন, শুরু থেকে আমরা একটি স্থিতিশীল ও কার্যকর গণতান্ত্রিক
ব্যবস্থার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিলাম। সেই প্রতিশ্রুতিতে এখনও অটল। আমরা
সামগ্রিক ফলাফলকে স্বীকৃতি দিচ্ছি এবং আইনের শাসনের প্রতি শ্রদ্ধা
জানাচ্ছি।
ফেসবুক
পোস্টে তিনি লেখেন, বিগত মাসগুলোতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, সেই
অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক ও সমর্থকদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
করছি। আপনাদের মধ্যে অনেকে নিজের সময়, শক্তি ও বিশ্বাস উৎসর্গ করেছেন।
অনেকে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে গিয়ে ভয়ভীতি ও হয়রানির শিকার হয়েছেন।
আপনাদের এই সাহসিকতা আমাদের গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করেছে।
নেতাকর্মীদের
উদ্দেশে শফিকুর রহমান লেখেন, আমি জানি, আপনারা অনেকে ব্যথিত এবং গভীরভাবে
হতাশ। এটি স্বাভাবিক। যখন আপনি কোনো আদর্শের পেছনে নিজের হৃদয় ঢেলে দেন,
তখন তার ফলাফল আপনাকে গভীরভাবে স্পর্শ করে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার করে
বলতে চাই- আপনাদের প্রচেষ্টা বৃথা যায়নি।
৭৭টি আসন নিয়ে আমরা সংসদে আমাদের
উপস্থিতিকে প্রায় চারগুণ বৃদ্ধি করেছি এবং আধুনিক বাংলাদেশের রাজনীতিতে
অন্যতম শক্তিশালী বিরোধী ব্লকে পরিণত হয়েছি।তিনি
লেখেন, আমাদের আন্দোলন কখনোই কেবল একটি নির্বাচনের জন্য ছিল না।
এটি ছিল
গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে শক্তিশালী করা, নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করা এবং
একটি ন্যায়বিচারপূর্ণ ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলার জন্য। আমরা
নীতিবান, দায়িত্বশীল এবং শান্তিপূর্ণ বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করব;
একই সঙ্গে সরকারের জবাবদিহি নিশ্চিত করে জাতীয় অগ্রগতিতে গঠনমূলক অবদান
রাখব।
তিনি
আরও বলেন, যে জাতি সদ্য তার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছে, সেই জাতির
বুকে সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রতিহিংসার রাজনীতির কোনো স্থান নেই।
আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই-জুলাই বিপ্লব এখনও জীবিত। জুলাই সনদ ছিল
একেবারে সুস্পষ্ট, আর কোনো স্বৈরাচার নয়;
না রাষ্ট্রীয় শক্তির মাধ্যমে, না
কোনো রাজনৈতিক দলের ছায়ায় থেকে। এ দেশের মানুষ একবার অন্যায়ের বিরুদ্ধে
রুখে দাঁড়িয়েছে, আবারও ভয়ভীতির অন্ধকারে ফিরে যাবে না।জামায়াত
আমির আরও লেখেন, নীতিভিত্তিক ও শান্তিপূর্ণ রাজনীতির প্রতি আমাদের
অঙ্গীকার অবিচল থাকবে।
শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে অ্যাকাউন্টে দেওয়া
আরেক বিবৃতিতে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সাম্প্রতিক
নির্বাচনের পর ভিন্নমতাবলম্বী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ওপর সহিংসতার ঘটনায়
তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে
যে, জুলাই বিপ্লবের চেতনা এখনও জীবিত এবং জনগণের ম্যান্ডেট কোনোভাবেই
নির্যাতনের লাইসেন্স নয়।
বিবৃতিতে
বলা হয়, নির্বাচনের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ১১ দলীয় জোটের
সমর্থকবৃন্দ, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বিএনপির মতের সঙ্গে ভিন্ন রাজনৈতিক
অবস্থান রাখার কারণে যেসব নিরীহ নাগরিক ও ভোটার সহিংসতার শিকার হয়েছেন,
আমরা তার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।
৩০ আসনে ভোট পুনর্গণনার আবেদন :
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটের ফলাফল জালিয়াতি, কারচুপি ও রেজাল্ট
শিটে ঘষা-মাজা করে ফলাফল পরিবর্তনের বিষয়ে জানিয়েছেন দলের সহকারী
সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। গতকাল শনিবার বিকালে জামায়াতে
ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান তিনি।
ব্রিফিংয়ে
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন জায়গায় হামলায়
হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এসব বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। আশা
করছি তারা তড়িৎ পদক্ষেপ নেবেন। তিনি বলেন, সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে অনেক
ক্ষেত্রে কারচুপি, জালিয়াতি, ভোট প্রদানে বাধা, এজেন্টদের বের করে দেওয়াসহ
বিভিন্ন ধরনের পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে।
৩০
আসনে ভোট পুনর্গণনার জন্য আবেদন করা হয়েছে-তা তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসেন হেলাল। তিনি বলেন, এসব আসনে ভোট
পুনর্গণনা করলে সত্য প্রকাশিত হবে এবং যাদের পরাজিত করা হয়েছে তারা বিজয়ী
হয়ে আসবেন।
ভোট
পুনর্গণনার জন্য আবেদন করা আসনগুলোর মধ্যে রয়েছে- ঢাকা-৭, ঢাকা-৮, ঢাকা-১০
, ঢাকা-১৩, ঢাকা-১৭, পঞ্চগড়-১, ঠাকুরগাঁও-২, দিনাজপুর-৩, দিনাজপুর-৫,
লালমনিরহাট-১, লালমনিরহাট-২, গাইবান্ধা-৪, বগুড়া-৩, সিরাজগঞ্জ-১, যশোর-৩,
খুলনা-৩, খুলনা-৫, বরগুনা-২,
ঝালকাঠি -১, পিরোজপুর -২, ময়মনসিংহ -১,
ময়মনসিংহ -৪, ময়মনসিংহ -১০, কিশোরগঞ্জ -৩, গোপালগঞ্জ -২, ব্রাহ্মণবাড়িয়া -৫,
চাঁদপুর -৪, চট্টগ্রাম -১৪, কক্সবাজার -৪। এসব আসনের মধ্যে জামায়াতসহ ১১ দলীয়
ঐক্যের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হয়েছেন। এরই মধ্যে নির্বাচন
কমিশন ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করেছে।